প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত

‘কুকুর পোষা পাপ, আর বিড়াল পোষা সুন্নত’ এই কথাটি গ্রাম‑শহরের বহু ঘরে শোনার মতো প্রচলিত। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মিডিয়ায় এই বিশ্বাসের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে; কিছ
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 30, 2026 প্রিন্ট: 31 Oct 2026, 01:54 AM
কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত

‘কুকুর পোষা পাপ, আর বিড়াল পোষা সুন্নত’ এই কথাটি গ্রাম‑শহরের বহু ঘরে শোনার মতো প্রচলিত। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মিডিয়ায় এই বিশ্বাসের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে; কিছু মানুষ কুকুরকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন, আর বিড়ালকে স্নেহের সঙ্গে ঘরে রাখেন। এই মতবাদটি ধর্মীয়, সামাজিক এবং মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, কারণ এটি পোষা প্রাণীর অধিকার, জনস্বাস্থ্য এবং প্রাণী কল্যাণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এই বিশ্বাসের মূল শিকড় ইসলামিক শারিয়া ও হাদিসে পাওয়া যায়, যেখানে কুকুরের লালন‑পালনকে কিছু শর্তে অনুমোদন করা হলেও শারীরিক অশুদ্ধতা ও নৈবেদ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিড়ালকে হাদিসে ‘শুদ্ধ’ ও ‘সুন্দর’ প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলেছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে, প্রাচীন বাংলায় কুকুরকে রক্ষাকর্তা ও শিকারের সঙ্গী হিসেবে মূল্যায়ন করা হতো; বিড়ালকে মশা ও ইঁদুরের শিকারী হিসেবে গৃহস্থালির সহায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো। এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সামাজিক রীতি এবং আধুনিক বিজ্ঞানিক তথ্যের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে।

ধর্মীয় পণ্ডিত, প্রাণী কল্যাণ কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের মতামত ভিন্ন‑ভিন্ন। কিছু উলেমা কুকুরের লালন‑পালনকে শারীরিক অশুদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করে, তবে তারা জোর দেন যে কুকুরকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা করলে তা সুন্নত হতে পারে। বিড়াল‑প্রেমী গোষ্ঠী প্রাণী অধিকার সংরক্ষণে সক্রিয়, তারা বিড়ালকে ঘরে রাখার পক্ষে যুক্তি দেন যে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সাধারণ মানুষও এই বিতর্কে বিভক্ত; কেউ কুকুরের প্রতি ভয় ও অবিশ্বাসে পূর্ণ, আবার কেউ তাদের সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে। সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়ে তীব্র আলোচনা চলতে থাকে, যা জনমতকে প্রভাবিত করে এবং পোষা প্রাণীর বাজারে চাহিদা‑সরবরাহের পরিবর্তন ঘটায়।

সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই বিতর্ককে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রাণী কল্যাণ আইন প্রণয়নের প্রস্তাবনা সংসদে আলোচিত হয়েছে, যেখানে কুকুর ও বিড়াল উভয়ের অধিকার সুরক্ষার জন্য স্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করার কথা। পাশাপাশি, শহর পরিষদগুলো পোষা প্রাণীর নিবন্ধন, টিকাদান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য কর্মসূচি চালু করেছে। ভবিষ্যতে, ধর্মীয় সংস্থা ও বিজ্ঞানী সংস্থার সমন্বয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক পোষা প্রাণী পরিচর্যা এবং জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে সমন্বিত নীতি গঠন করা হবে, যাতে ‘কুকুর পোষা পাপ’ বা ‘বিড়াল পোষা সুন্নত’ মত পুরনো ধারণা আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.