প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
অপরাধ

জেলেদের জালে ধরা পড়ল পদ্মার শুশুক ও বাগাড় মাছ, স্থানীয় বাজারে বিক্রি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে গতকাল বিক্রয়ের জন্য প্রকাশ্যে নিলামে একাধিক শুশুক (গাঙ্গেয় ডলফিন) এবং বাগাড় মাছের কেজি রাখা হয়। স্থানীয় ক্রেতার
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 30, 2026 প্রিন্ট: 31 Oct 2026, 04:30 PM
জেলেদের জালে ধরা পড়ল পদ্মার শুশুক ও বাগাড় মাছ, স্থানীয় বাজারে বিক্রি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে গতকাল বিক্রয়ের জন্য প্রকাশ্যে নিলামে একাধিক শুশুক (গাঙ্গেয় ডলফিন) এবং বাগাড় মাছের কেজি রাখা হয়। স্থানীয় ক্রেতারা প্রথমে শুশুককে অস্বাভাবিক মাছের রূপে গুলিয়ে নিলেও, বাজারের এক কর্মীর সতর্কবার্তা পরেই তা প্রকাশ পায়। শুশুকের এই ধরা পড়া দেশের সর্বশেষ নথিভুক্ত কেসের মধ্যে একটি, যা দেশের জলজীব সংরক্ষণে এক নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করে। নিলামটি স্থানীয় মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জনসাধারণের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের স্রোত সৃষ্টি হয়।

শুশুকের অবৈধ শিকারের পটভূমি বহু বছর আগে থেকেই গঠনশীল। গাঙ্গেয় ডলফিন আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ তালিকায় ‘বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত, এবং বাংলাদেশে ১৯৯২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন স্পষ্টভাবে শুশুকের শিকার ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে সীমান্ত পারাপার জাল, জেলেদের জাল ও অনিয়ন্ত্রিত মাছধরা পদ্ধতি এই আইনকে অমান্য করে চলেছে। পূর্বে চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু মাছবাজারে শুশুকের মাংস বিক্রির রেকর্ড পাওয়া গিয়েছে, তবে গোয়ালন্দের এই ঘটনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা আইন প্রয়োগের ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবকে উন্মোচিত করে।

ঘটনার পরপরই পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা ‘বন্যপ্রাণী রক্ষা’ এবং স্থানীয় পরিবেশবাদী গোষ্ঠী দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা জোরালোভাবে দাবি করে যে শুশুকের ধরা ও বিক্রয় অপরাধের শীর্ষে থাকা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। বাজারের বিক্রেতা ও জেলে ধরা পড়া মাছধরার দলকে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেছে, শুশুকের মাংসের চাহিদা স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে অল্প, তবে উচ্চমূল্য পেতে পারে বলে তারা এই ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। স্থানীয় কৃষক ও গ্রাহকরা শুশুকের বিক্রয়কে নিন্দা করে, এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।

স্থানীয় পুলিশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, নিলামস্থল থেকে শুশুক ও বাগাড় মাছের সব কেজি বাজেয়াপ্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট জেলে ধরা দলকে গ্রেফতার করে। এখন পর্যন্ত আটজন জেলে ধরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন’ লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জেলা প্রশাসক বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে জেলে ধরা দল, মাছবাজারের বিক্রেতা ও স্থানীয় জনগণকে আইন ও সংরক্ষণ নীতিমালা সম্পর্কে সচেতন করা হবে। এছাড়া, ডলফিনের স্বাভাবিক বাসস্থান রক্ষা ও পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন জলে-জীব রিসার্চ সেন্টার গঠন করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শুশুকের জনসংখ্যা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.