প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
সারাদেশ

শখের বশে আনারকলি চাষে সফল মেহেরপুরের চাষি মিঠু

মেহেরপুরের রূপসী উপজেলায় শখের বশে আনারকলি চাষে সফল হয়েছেন স্থানীয় কৃষক মিঠু। সাধারণত এই অঞ্চলে ধান, ভুট্টা বা সবজি চাষই বেশি দেখা যায়, কিন্তু মিঠু নিজের জমি
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 29, 2026 প্রিন্ট: 29 Oct 2026, 10:35 AM
শখের বশে আনারকলি চাষে সফল মেহেরপুরের চাষি মিঠু

মেহেরপুরের রূপসী উপজেলায় শখের বশে আনারকলি চাষে সফল হয়েছেন স্থানীয় কৃষক মিঠু। সাধারণত এই অঞ্চলে ধান, ভুট্টা বা সবজি চাষই বেশি দেখা যায়, কিন্তু মিঠু নিজের জমিতে আনারকলি ফলানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই অসামান্য উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো তাঁর জমিতে আনারকলি ফল ধরেছে এবং ফলগুলোর মান ও রঙ দেখে আশেপাশের বাসিন্দারা মুগ্ধ হয়েছেন। এই সাফল্য শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি একটি নতুন কৃষিকার্যের দিকে ইঙ্গিত করে, যা মেহেরপুরের কৃষি খাতে বৈচিত্র্য আনতে পারে।

মিঠুর এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ফলের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল। বিশেষ করে আনারকলির সুগন্ধি ও স্বাদ তাঁকে মুগ্ধ করেছে। স্থানীয় বাজারে আনারকলির চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহের অভাব রয়েছে। এই বাজারের ফাঁক পূরণ করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রথমে ছোট পরিসরে চাষ শুরু করেন। শুরুতে অনেক কষ্ট ও বাধার সম্মুখীন হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে তিনি সঠিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ ও সেবা দিয়েছেন। তাঁর এই অধ্যবসায় ও ধৈর্যের ফলেই আজ তিনি সফলতার শীর্ষে পৌঁছাতে পেরেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মিঠুর এই সাফল্যকে প্রশংসার কাতারে রেখেছেন। তাঁরা মনে করেন, মিঠু শুধুমাত্র নিজের জমিতে নয়, বরং পুরো উপজেলার কৃষকদের জন্য একটি নতুন পথ দেখিয়েছেন। আনারকলি চাষের মাধ্যমে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন, যা পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধনে সহায়ক হবে। অনেক কৃষক এখন মিঠুর কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেরা চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। স্থানীয় বাজারে আনারকলির দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মধ্যে এই ফল চাষের প্রতি আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়াও, নারী কৃষকদের মধ্যেও এই উদ্যোগের প্রতি উৎসাহ দেখা দেওয়া শুরু হয়েছে, যা কৃষি খাতে নারীশক্তির ভূমিকা বাড়িয়ে তুলবে।

কর্তৃপক্ষ মিঠুর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা মিঠুর মতো উদ্যোক্তা কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। ভবিষ্যতে আনারকলি চাষের পরিসর বাড়ানোর জন্য সরকারি পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে। মিঠু জানান, তিনি শুধুমাত্র চাষে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং আনারকলি থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি সৃষ্টির চেষ্টা করবেন। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি মেহেরপুরের কৃষি খাতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.