প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
আন্তজাতিক

সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দেশের সরকারি পোর্টাল ও সামাজিক মাধ্যমে এক ঐক্যবদ্ধ আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘আসুন, একসঙ্গে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 28, 2026 প্রিন্ট: 29 Oct 2026, 08:34 AM
সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দেশের সরকারি পোর্টাল ও সামাজিক মাধ্যমে এক ঐক্যবদ্ধ আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘আসুন, একসঙ্গে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ককে আরও গভীর করি’। এই প্রকাশনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎক্ষণাৎ ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন অংশীদার এবং দু'দেশের কূটনৈতিক বন্ধন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে মজবুত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বানকে দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে দুই দেশ বহু ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। জাপান বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিকাশ সহায়তা দেশগুলোর একটি এবং বহু অবকাঠামো প্রকল্পে সরাসরি বিনিয়োগ করেছে, যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে, সিলেটের রেলওয়ে সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর। অতিরিক্তভাবে, জাপানি কোম্পানিগুলি গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে ব্যাপক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, যা দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই ঐতিহাসিক সহযোগিতা ভিত্তিক, বর্তমান সময়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিমাণে ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে একাধিক প্রশিক্ষণ ও স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর জাপানের দূতাবাসের প্রধান ওয়াতানাবে সানওয়াতার উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানবিক বন্ধনেও সমৃদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করে নতুন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করতে পারি’। দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জাপানীয় বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টির জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি ও শিল্পপতি গোষ্ঠী এই আহ্বানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, জাপানীয় বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং যৌথ গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যুবক ও শিক্ষার্থীরা জাপানীয় স্কলারশিপ ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের প্রতি আগ্রহী।

অধিকতরভাবে, সরকার ইতিমধ্যে ঢাকা-টোকিও উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বহু ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি কমিটি গঠন করে নিয়মিত বৈঠক ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করা হবে, এবং জাপানীয় বিনিয়োগের জন্য বিশেষ অর্থায়ন তহবিল স্থাপন করা হবে। এছাড়া, নতুন বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয় করা হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগগুলো দেশের শিল্পায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে বলে সরকারী সূত্রে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.