প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
রাজনীতি

‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গৃহমন্ত্রী আজ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ক্রসফায়ার’ মামলায় শূন্য সহনশীলতা নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের কোনো অবহেলা বা দোষারোপের ভিত্তি
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 27, 2026 প্রিন্ট: 28 Oct 2026, 10:14 PM
‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গৃহমন্ত্রী আজ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ক্রসফায়ার’ মামলায় শূন্য সহনশীলতা নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের কোনো অবহেলা বা দোষারোপের ভিত্তিতে কোনো অপরাধীকে রক্ষা করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইজিপি (আইজিপি) কর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্টে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সঠিক নয় এবং তা সংশোধন করা প্রয়োজন। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় যে সাম্প্রতিক মাসে তিনটি ক্রসফায়ার ঘটনার ফলে মোট আটজনের মৃত্যু ঘটেছে, যা দেশের নিরাপত্তা নীতির প্রতি জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর অপারেশন চলাকালীন অবৈধভাবে গৃহীত গুলি চালনার ফলে বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুকে নির্দেশ করে। গত পাঁচ বছরে আইজিপি ও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৪৫টি ক্রসফায়ার ঘটেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলে ঘটেছে যেখানে আইন প্রয়োগকারী ও নাগরিকের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। পূর্বে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের পরেও কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও শাস্তি না দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে, যা আইজিপির রিপোর্টে উল্লেখিত হয়েছে।

মন্ত্রীর মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দল, মানবাধিকার সংস্থা এবং শিকারের পরিবার থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিরোধী দল তাদের মুখ্য প্রতিনিধি মাধ্যমে দাবি করে যে, সরকারকে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তি দিতে হবে এবং আইজিপির রিপোর্টে উল্লিখিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করতে হবে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়ানো জরুরি। সাধারণ জনগণও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি এবং অপরাধের ঝুঁকি বেশি।

কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ‘ক্রসফায়ার’ মামলায় বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রীর অফিস জানিয়েছে, আগামী মাসে একটি বিস্তৃত নীতি পত্র প্রকাশ করা হবে, যেখানে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, তদারকি মেকানিজম এবং আইজিপির রিপোর্টের সংশোধন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনধিকারিক গুলি চালনা রোধ করা যায়।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.