প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

শরিয়া আইনে ‘তাজির’ কী, তাজিরে কি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়

সৌদি আরবের এক উচ্চ আদালত সম্প্রতি দুজন বাংলাদেশী শ্রমিককে শারিয়া আইনের অধীনে ‘তাজির’ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এই রায়টি আন্তর্জাতিক পর
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 25, 2026 প্রিন্ট: 27 Oct 2026, 07:10 PM
শরিয়া আইনে ‘তাজির’ কী, তাজিরে কি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়

সৌদি আরবের এক উচ্চ আদালত সম্প্রতি দুজন বাংলাদেশী শ্রমিককে শারিয়া আইনের অধীনে ‘তাজির’ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এই রায়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনার সূত্রপাত করেছে, কারণ ‘তাজির’ অপরাধের জন্য শারিয়া আইনে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ সম্পর্কে আইনি ও ধর্মীয় মতবৈষম্য বিদ্যমান। রায়ের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশী সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি প্রশ্ন তুলেছে যে, তাজিরের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড আইনগতভাবে অনুমোদিত কিনা। ঘটনাটি বাংলাদেশের বিদেশে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে।

‘তাজির’ শব্দটি শারিয়া আইনের সেই অপরাধকে নির্দেশ করে, যার জন্য কোরান বা হাদিসে নির্দিষ্ট শাস্তি নির্ধারিত নয়; বরং বিচারক তার বিচারের অধিকার ব্যবহার করে শাস্তি নির্ধারণ করেন। ‘হুদুদ’ ও ‘কিসাস’ অপরাধের তুলনায় তাজিরের শাস্তি অধিক নমনীয় এবং প্রায়শই জরিমানা, শারীরিক শাস্তি অথবা কারাদণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে কিছু দেশে তাজিরের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে, যদিও তা সীমিত এবং নির্দিষ্ট শর্তে প্রযোজ্য। সৌদি আরবে পূর্বে তাজির অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়েছে; অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি হ্রাস বা বিকল্প শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রায়ের পর তৎক্ষণাৎ একটি নোটিশ জারি করে, যেখানে সৌদি কর্তৃপক্ষকে রায়ের আইনি ভিত্তি ও শাস্তির বৈধতা স্পষ্ট করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌদি দূতাবাসও সংশ্লিষ্ট মামলায় ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করে, তবে তাজিরের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন উত্থাপন করে। মানবাধিকার সংস্থা গুলিও রায়কে ‘অসঙ্গত’ ও ‘অমানবিক’ বলে সমালোচনা করেছে, এবং দু'জনের পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরে এই রায়ের প্রতি বিস্তৃত আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে শ্রমিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্তদের কনসুলার সহায়তা ও শাস্তি হ্রাসের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে। পাশাপাশি, বিদেশে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য শারিয়া আইনের জটিলতা ও তাজিরের শাস্তি সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাজির অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ সীমিত করতে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সমন্বয় সাধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ঘটনা বাংলাদেশকে বিদেশে শ্রমিক রক্ষা ও কূটনৈতিক নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.