রাষ্ট্রপতি আজ জাতীয় জাদুঘরে ‘ভাবুক সম্রাট’ শিরোনামের বিশেষ বক্তৃতা প্রদান করে দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনর্নির্মাণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিকায়নের তালে তালে দেশের প্রাচীন রাজবংশের বৌদ্ধিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করা না হলে জাতীয় পরিচয় ক্ষীণ হয়ে যাবে। উপস্থিত বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়, যা দেশের সমগ্র জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
বক্তৃতার পটভূমিতে রয়েছে গত দশকে দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবহেলার ফলে সৃষ্ট সাংস্কৃতিক ধ্বংসের ধারাবাহিকতা। পূর্বে বহু ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ও গ্রন্থাগার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, যা জাতীয় স্মৃতির ক্ষয় ঘটিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পূর্বে সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নে ত্রুটি রয়ে গিয়েছে। ‘ভাবুক সম্রাট’ শিরোনামটি মূলত দেশের শাসক শাসকী ঐতিহ্যের বৌদ্ধিক দিককে পুনরায় উন্মোচনের ইঙ্গিত বহন করে, যা বর্তমান সময়ে প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত।
বক্তৃতার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের মন্তব্যে দেখা যায়, ইতিহাসবিদ ড. রাহুল চৌধুরী বলেন, ‘সম্রাটের ভাবুকতা মানে কেবল ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং জনগণের মঙ্গলের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা’। শিল্পী সুমিতা রায় উল্লেখ করেন, ‘এই বক্তৃতা আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে নতুন দিশা দেখাবে’। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই বক্তৃতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে; সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে দেখা যায়, মানুষ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাচ্ছেন।
সরকার ইতিমধ্যে ‘ভাবুক সম্রাট’ পরিকল্পনার আওতায় ঐতিহাসিক স্থান পুনরুদ্ধার, গ্রন্থাগার ডিজিটালাইজেশন এবং শিক্ষাক্রমে ঐতিহ্য বিষয়বস্তু সংযোজনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে রিপোর্ট দেবে। পাশাপাশি, সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে ঐতিহাসিক রপ্তানি ও গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে, যা দেশের সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।