বিশ্ব পোলিও দিবসের উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর, ঢাকার রোড নং ১২০‑এ রোটারি ইন্টারন্যাশনাল গর্বের সঙ্গে র্যালি আয়োজন করা হয়। র্যালিটি সকাল ৯ টায় শুরু হয়ে দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে; রঙিন গাড়ি, সাইকেল ও পায়ে হেঁটে চলা স্বেচ্ছাসেবকরা পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা বহন করে। র্যালির পথে সজ্জিত পোস্টার, ব্যানার ও হেলমেটের ওপর পোলিও টিকাদানের গুরুত্ব ও শিশুরা কীভাবে নিরাপদে রক্ষা পেতে পারে তা চিত্রিত করা হয়েছে। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হল পোলিওমুক্ত বিশ্ব গঠনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা এবং শিশুদের টিকাদান প্রক্রিয়ায় উৎসাহিত করা।
পোলিও রোগের ইতিহাসে বাংলাদেশ ১৯৯৫ সালে শেষ রোগীকে রেকর্ড করলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদান হার হ্রাস এবং গৃহস্থালির ভুল তথ্যের কারণে রোগের পুনরাবৃত্তি দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সমন্বয়ে গৃহীত গ্লোবাল পোলিও ইরেডিকেশন ইনিশিয়েটিভ (GPEI) পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০০১ সাল থেকে ‘ইনফ্যান্ট টিকা ডে’ ও ‘পোলিও রোড শো’ সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করেছে। তবে, গ্রামীণ এলাকায় টিকাদান কেন্দ্রের দূরত্ব, পারিবারিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই পটভূমিতে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের র্যালি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে, যা শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তথ্যের সঞ্চারকে ত্বরান্বিত করে।
রোটারি আন্তর্জাতিকের সভাপতি শ্রীমতি রোশনি আহমেদ র্যালি সমাপ্তির পর বলেন, ‘পোলিও নির্মূলের জন্য সমাজের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য; আজকের র্যালি সেই সমন্বয়ের এক উদাহরণ’। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রশিদুল হকও র্যালি সম্পর্কে মন্তব্য করে, ‘শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; র্যালি মত জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা টিকাদান হার বৃদ্ধি করতে পারি’। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবক রাহুল চৌধুরী জানান, ‘আমি নিজের সন্তানকে টিকাদান করিয়েছি এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করছি’; একই সঙ্গে, রাস্তায় উপস্থিত সাধারণ নাগরিকদের মুখে হাসি ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ দেখা যায়। এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে বৃহত্তর সচেতনতামূলক উদ্যোগের ভিত্তি স্থাপন করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় র্যালির পরপরই জাতীয় টিকাদান পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে, আগামী ছয় মাসে ১০টি নতুন টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন এবং মোবাইল টিকাদান ইউনিট চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, সরকার ডিজিটাল রেজিস্ট্রি প্রবর্তন করে টিকাদান তথ্যের স্বচ্ছতা ও ট্র্যাকিং নিশ্চিত করবে। রোটারি আন্তর্জাতিকের সঙ্গে সমন্বয় করে, সরকার র্যালি‑এর সফলতা বিশ্লেষণ করে ২০২৭ সালে ‘পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্য পরিবেশ গড়ে উঠবে।