সৌদি আরবের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে হুতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলার ফলে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা‑রিয়াদ গামী ১৪১টি উড়ান স্থগিত করা হয়েছে। এ বিধিনিষেধের ফলে প্রায় বিশ হাজার দুইশো যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে এবং মোট ২২,০০০ যাত্রী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছে। উড়ানগুলোতে দেরি, বাতিল এবং পুনঃনির্ধারণের ঘটনা বেড়েছে, যা ব্যবসায়িক ও ধর্মীয় সফরের জন্য নির্ভরশীল বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য বড় অসুবিধা সৃষ্টি করেছে। বিমান সংস্থাগুলো জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে যাত্রীদের অবহিত করেছে এবং বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হুতি গোষ্ঠী গত কয়েক মাসে লাল সাগর ও আরব উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল টার্মিনালকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এই আক্রমণগুলোকে প্রতিহত করতে সৌদি আরব সরকার আকাশ ও স্থল নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলকে রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে সব আন্তর্জাতিক উড়ানকে সীমাবদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের শ্রমিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বিধিনিষেধ উভয় দেশের ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক সংযোগে চাপ সৃষ্টি করেছে। পূর্বে ২০২২ সালে একই ধরনের সীমাবদ্ধতা সাময়িকভাবে আরোপিত হওয়ার পরেও এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বিএসিএ) এই পরিস্থিতি নিয়ে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প রুট নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এয়ারলাইনসের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে বাতিল হওয়া উড়ানের টিকিটের সম্পূর্ণ রিফান্ড অথবা পুনঃবুকিং করা হবে এবং যাত্রীর ক্ষতিপূরণ নীতি অনুসারে অতিরিক্ত ব্যয় ফেরত দেওয়া হবে। তবে বহু যাত্রীর মতে দীর্ঘ অপেক্ষা সময় এবং পুনঃনির্ধারিত উড়ানের অনিশ্চয়তা তাদের কর্মস্থল ও পারিবারিক পরিকল্পনায় বড় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। ভ্রমণ সংস্থা ও ট্যুর অপারেটররা জরুরি বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের বিকল্প ভ্রমণ পরিকল্পনা গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিকাংশ কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে হুতি গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং বৃদ্ধি এবং উড়ান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্ক্রিনিং প্রয়োগ। বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে উড়ান পুনরায় চালু করার সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জরুরি ভিসা ও পারমিট প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে উড়ান রুটের বিকল্প বিকাশ, আঞ্চলিক হাব ব্যবহার এবং যাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ নীতি গঠন করা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো উড়ান পুনরায় স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।