প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
সারাদেশ

বেপরোয়া গতিতে চলছিল বাস, পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গড়বড়ি-সিলেট দিকের একটানা রাস্তায় একটি বাস এবং পিকআপ গাড়ির মধ্যে ধাক্কা লেগে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জ
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 23, 2026 প্রিন্ট: 23 Oct 2026, 07:59 AM
বেপরোয়া গতিতে চলছিল বাস, পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গড়বড়ি-সিলেট দিকের একটানা রাস্তায় একটি বাস এবং পিকআপ গাড়ির মধ্যে ধাক্কা লেগে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা দল দ্রুত পৌঁছায় এবং আহতদের তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে স্থানান্তর করে, তবে গুরুতর শারীরিক আঘাতের ফলে দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। মরণোত্তর পরীক্ষা থেকে জানা যায় যে দুজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে তীব্র চোট লেগে ছিল। এই দুর্ঘটনা রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে এবং ট্রাফিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

বহু বছর ধরে দেশের প্রধান রাস্তাগুলোতে অতিরিক্ত গতি, অপ্রতুল সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের ফলে সড়ক দুর্ঘটনার হার উচ্চমাত্রায় রয়ে এসেছে। বিশেষ করে রাতের সময়ে গাড়ি চালকদের বেপরোয়া গতি এবং অযথা ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পূর্বে একই মহাসড়কে অনুরূপ দু'টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু মানুষ আহত ও প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গতিশীলতা নিয়ন্ত্রণের জন্য গতি সীমা নির্ধারণ, রেলিং ও ক্যামেরা স্থাপন এবং রোড সাইনেজের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মো. সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে জানান, “মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাসটি খুব দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল।” স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাও উল্লেখ করেন যে, ঘটনাস্থলে গতি মাপার যন্ত্রের রেকর্ডে গড় গতি অনুমোদিত সীমা অতিক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন পথচারী ও যাত্রীও গাড়ি চালকের অযত্নপূর্ণ আচরণকে সমালোচনা করে মন্তব্য করেন যে, গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর শাস্তি না দিলে এধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে। পরিবারিক সদস্যরা শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের প্রিয়জনের হঠাৎ মৃত্যুতে মনের ব্যথা অমাপযোগ্য। সরকার যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।”

দুর্ঘটনার পরপরই রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এবং ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে এবং গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত রাডার ক্যামেরা স্থাপন, গতি সীমা পুনর্বিবেচনা এবং রোড সাইনেজের আপডেটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এছাড়া, চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক গতি প্রশিক্ষণ এবং রোড সেফটি ক্যাম্পেইন চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর শাস্তি এবং তাত্ক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো রাস্তায় নিরাপদ গতি বজায় রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.