স্পেনের বার্সেলোনায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল মেলা ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’ আজ উদ্বোধন হয়েছে। মেলাটি ২৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবং বিশ্বব্যাপী ৪৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। এ মেলায় বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও মানদণ্ড প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। মেলাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বার্সেলোনা মেয়র ও বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়। এই মেলায় বাংলাদেশের রেডি-গার্মেন্টস, হোম টেক্সটাইল, টেকসই ফ্যাব্রিক ও ডিজাইন বিভাগে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা ইউরোপীয় বাজারের উচ্চমানের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা প্রদর্শন করবে। এছাড়া, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতা সংযোগের নতুন মডেলও উপস্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে এবং বিশ্বব্যাপী গার্মেন্টস বাজারে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে স্থান অর্জন করেছে। গত দশকে দেশটি ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকান বাজারে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে; তবে স্পেনের মতো মধ্যম ইউরোপীয় দেশগুলিতে সরাসরি উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, পণ্যের গুণগত মান যাচাই এবং নতুন ডিজাইন ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার সুযোগ মিলবে। এছাড়াও, স্পেনের টেকসই ফ্যাশন নীতি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য উপস্থাপন করে দেশীয় শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রচার ব্যুরোর পরিচালক আবদুল হক বলেন, ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে আমরা আমাদের উচ্চমানের ফ্যাব্রিক ও উদ্ভাবনী ডিজাইন সরাসরি ইউরোপীয় ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি’। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি রশিদুল ইসলাম, যিনি ‘সৌন্দর্য টেক্সটাইল লিমিটেড’ এর ম্যানেজার, উল্লেখ করেন, ‘স্পেনের ক্রেতারা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগী, তাই আমাদের নতুন ইকো-ফ্যাব্রিক লাইন এখানে প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। মেলায় উপস্থিত স্প্যানিশ টেক্সটাইল সমিতির সভাপতি মারিয়া গারসিয়া জানান, ‘বাংলাদেশের দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন টেক্সটাইল শিল্প আমাদের জন্য একটি আকর্ষণীয় অংশীদার, আমরা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা গড়ে তুলতে ইচ্ছুক’। এসব মন্তব্য দেশের টেক্সটাইল পণ্যের গুণগত মান ও বাজার প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
মন্ত্রণালয় অব টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস এই মেলায় অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও লজিস্টিক্স সাপোর্ট প্রদান করেছে এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রশিক্ষণও দিয়েছে। সরকার স্পেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার সূচনা করেছে, যাতে টেক্সটাইল পণ্যের শুল্ক হ্রাস এবং সরাসরি রপ্তানি সহজতর হয়। এছাড়া, আগামী বছর ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৭’ তেও বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রপ্তানি ভিত্তি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই মেলায় গৃহীত চুক্তি ও ব্যবসায়িক চুক্তি দেশের রপ্তানি আয়কে কমপক্ষে দশ শতাংশ বৃদ্ধি করবে এবং টেকসই উৎপাদন পদ্ধতির গ্রহণকে ত্বরান্বিত করবে।