গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হওয়া মানহীন বৈদ্যুতিক বাল্বের কারণে একাধিক গৃহস্থালীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ না করা এই বাল্বগুলোতে সয়লাবের পরিবর্তে অপ্রতুল তাপমাত্রা সহ্যকারী উপাদান ব্যবহার করা হয়, ফলে দীর্ঘ সময় চালু রাখলে বাল্বের গ্লাস ফাটে এবং তীব্র তাপ উৎপন্ন করে। এই ঘটনাটি প্রথমবারের মতো মিডিয়া সংস্থাগুলোতে আলোচিত হওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্কের স্রোত বয়ে গেছে এবং সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বাজারে এই মানহীন বাল্বের প্রবেশের পেছনে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত আমদানি ও ঘরোয়া উৎপাদন। গত কয়েক বছর ধরে সস্তা বৈদ্যুতিক পণ্য সরবরাহের জন্য কিছু অপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদেশি সরবরাহকারীর সঙ্গে চুক্তি করে সয়লাবের পরিবর্তে কম দামের তেল ব্যবহার করে বাল্ব তৈরি করে বিক্রি করে আসছে। এই তেল উচ্চ তাপমাত্রায় দ্রুত গলতে পারে এবং গ্লাসের কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়। তদুপরি, গৃহস্থালী ও অফিসে ব্যবহৃত পুরনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলোর সঙ্গে এই বাল্বের সামঞ্জস্যতা না থাকায় অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড সৃষ্টি হয়, যা বিদ্যুৎ সংযোগে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে।
বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাল্বের ব্যবহারকারী অধিকাংশই সচেতনতা ও তথ্যের অভাবে ঝুঁকিতে আছেন। ঢাকা শহরের এক গৃহস্থালী মিস রেশমা বলেন, “আমি সস্তা দামের বাল্ব কিনে ব্যবহার করছিলাম, হঠাৎ বাল্বের গ্লাস ফাটে এবং ঘরে অগ্নিকাণ্ডের হুমকি দেখা দিল। এমনকি আমার সন্তানও আহত হতে পারত।” এছাড়া, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শ্রীমতি নূরজাহান উল্লেখ করেন, “বাজারে প্রচলিত এই ধরনের পণ্যগুলোর গুণগত মান যাচাই না করা হলে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। সরকারকে তৎক্ষণাৎ কঠোর শুল্ক ও মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে।” ভোক্তা অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিও দাবি করেন, “বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, গ্রাহকদের সঠিক তথ্য প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচার চালানো জরুরি।”
প্রতিক্রিয়ায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানহীন বাল্বের আমদানি ও উৎপাদন বন্ধ করার জন্য জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোতে এই ধরনের পণ্যের সনাক্তকরণ ও রিকল প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। ভবিষ্যতে, নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও র্যান্ডম পরীক্ষা চালিয়ে বাজারে শুধুমাত্র প্রমাণিত গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের বাজার দমন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশ্বাস দিয়েছে।