প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

‘মুখ দেখাতে পারছি না’, যাচাইয়ে বাদ পড়ে তাঁদের দুঃসহ জীবন

৪৫তম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই জানা গেছে যে মোট ৫৬ জন প্রার্থীর নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত নয়জন সনাতন ধর
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 21, 2026 প্রিন্ট: 21 Oct 2026, 07:19 AM
‘মুখ দেখাতে পারছি না’, যাচাইয়ে বাদ পড়ে তাঁদের দুঃসহ জীবন

৪৫তম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই জানা গেছে যে মোট ৫৬ জন প্রার্থীর নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত নয়জন সনাতন ধর্মাবলম্বী, যাঁরা ফলাফল যাচাই প্রক্রিয়ায় অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারী দপ্তর এই তথ্যকে ‘প্রতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা’ ও ‘সামান্যতা’ রক্ষার জন্য নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তবে সমালোচকরা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

বিসিএস পরীক্ষা দেশের সর্বোচ্চ স্তরের সিভিল সেবা নির্বাচনের মূল ভিত্তি, যেখানে প্রার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক মানদণ্ডের কঠোর মূল্যায়ন করা হয়। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রার্থীদের বাদ পড়ার ঘটনা বিরল ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যাচাই প্রক্রিয়ায় নথিপত্রের যথার্থতা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও নৈতিকতার ওপর জোর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক পটভূমি যাচাইয়ের অতিরিক্ত ধাপ যোগ করা হয়েছে, যা সমতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এই পটভূমিতে দেখা যায় যে, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বহু ধর্মীয় সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দল বাদ পড়া প্রার্থীদের পক্ষে সমবেতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা দাবি করে যে, যাচাই প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় বৈষম্য রোধে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা উচিত এবং প্রার্থীদের পুনরায় আপিলের সুযোগ দেওয়া দরকার। বাদ পড়া প্রার্থীদের পরিবারও শোক ও হতাশার সঙ্গে সঙ্গে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ন্যায্যতা পর্যালোচনা করা যায়। জনমতেও এই ঘটনার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ পেয়ে, সামাজিক মিডিয়ায় ‘ধর্মীয় বৈষম্য বিরোধী’ হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সরকারি দপ্তর বর্তমানে বাদ পড়া প্রার্থীদের আপিল প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি প্রার্থীদের জমা দেওয়া নথি পুনরায় পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে যাচাই প্রক্রিয়ার মানদণ্ড ও পদ্ধতি সংশোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’কে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে, যা দেশের সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.