প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালকে দাফন

ঢাকার জাতীয় শিবিরে আজ বিকাল ৩টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালকে দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, মন্
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 20, 2026 প্রিন্ট: 21 Oct 2026, 03:42 AM
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালকে দাফন

ঢাকার জাতীয় শিবিরে আজ বিকাল ৩টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালকে দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, মন্ত্রিসভা সদস্য, সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বহু সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সাঈদা কামালের বড় বোন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, তার মেয়ে এবং অন্যান্য পারিবারিক সদস্যরা শোকসন্ধ্যায় অংশগ্রহণ করে শোকের স্রোত প্রকাশ করেন। দাফনস্থলে ত্রিবর্ণ পতাকা নিঃশ্বাসে নেমে, সঙ্গীতের সুরে শোকের পরিবেশ গাঢ় হয়ে ওঠে, যা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে।

সাঈদা কামাল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গোপন তথ্য সংগ্রহ ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় কাজ করে বীরত্বের নিদর্শন স্থাপন করেন। যুদ্ধের পর তিনি চিত্রকলার মাধ্যমে জাতীয় চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার শিল্পকর্মে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, শরণার্থীর কষ্ট এবং স্বাধীনতার স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা পেয়েছে। বহু পুরস্কার ও সম্মাননা তার নামের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে স্বাধীনতা পুরস্কার, জাতীয় শিল্পকলা পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক চিত্রকলা মেলায় স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত।

দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল সাঈদার ত্যাগকে “জাতির মুক্তি ও মানবিকতার মূর্ত প্রতীক” বলে উল্লেখ করেন এবং তার শিল্পকর্মকে “শান্তি ও সমতার বার্তা বহনকারী সেতু” হিসেবে প্রশংসা করেন। পরিবারের সদস্যরা সাঈদার আত্মার শান্তি ও দেশের উন্নয়নে তার অবদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সাধারণ জনগণও দাফনস্থলে একত্রিত হয়ে শোকের স্রোত ভাগ করে, সামাজিক মিডিয়ায় সাঈদার স্মৃতিচারণা ও তার শিল্পকর্মের ছবি শেয়ার করে সম্মান জানায়। এই শোকসন্ধ্যা দেশের বিভিন্ন অংশে টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়, যা জাতীয় সংহতি ও শোকের অনুভূতিকে একত্রিত করে।

সরকার দাফন অনুষ্ঠানের পর সাঈদা কামালের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এবং তার শিল্পকর্মের সংরক্ষণে একটি বিশেষ গ্যালারি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তার নামের সঙ্গে একটি জাতীয় চিত্রকলা পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করে ভবিষ্যৎ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা দিতে চায়। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে তার পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সাঈদা কামালের জীবন ও সৃষ্টিকর্মকে কেন্দ্র করে একাধিক শৈল্পিক কর্মশালা ও স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা তার উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.