প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
রাজনীতি

হায় সেলুকাস!..তরুণদেরকে আরেকবার জাগতে হবে

বঙ্গবন্ধু সেলুকাসের নাম উল্লেখ করে জামায়াতের আমির ফেসবুক পৃষ্ঠায় এক চমকপ্রদ পোস্ট প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দেশের যুবসমাজকে ‘আবার জাগতে হবে’ বলে আহ্বান জানিয়েছ
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 20, 2026 প্রিন্ট: 21 Oct 2026, 03:39 AM
হায় সেলুকাস!..তরুণদেরকে আরেকবার জাগতে হবে

বঙ্গবন্ধু সেলুকাসের নাম উল্লেখ করে জামায়াতের আমির ফেসবুক পৃষ্ঠায় এক চমকপ্রদ পোস্ট প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দেশের যুবসমাজকে ‘আবার জাগতে হবে’ বলে আহ্বান জানিয়েছেন। পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে, বিশেষত যুব সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পোস্টের মূল বক্তব্যে আমির বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যুবদের অপ্রতুল অংশগ্রহণ ও নৈতিক অবক্ষয়কে সমালোচনা করে, এবং তাদের সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের জন্য তাড়া দেন। এই মন্তব্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, এটি দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে এবং যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত করেছে।

এই পোস্টের পটভূমিতে রয়েছে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, যেখানে বিভিন্ন দল ও সংগঠন যুবকদের সমর্থন ও অংশগ্রহণকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছে। অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বের কিছু মন্তব্যে যুবকদের প্রতি সমর্থন ও সমালোচনার মিশ্রণ দেখা গিয়েছে, তবে এইবারের পোস্টে সরাসরি ‘সেলুকাস’ উল্লেখ করে অতীতের আদর্শিক চিত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাছাড়া, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান বাজারে যুবকদের মুখোমুখি সমস্যাগুলি, যেমন বেকারত্ব, শিক্ষার মানের অবনতি, এবং রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, এই মন্তব্যের পেছনে প্রভাবশালী কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

পোস্টের প্রকাশের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংগঠন থেকে দ্রুতই মন্তব্য প্রকাশ পায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই পোস্টকে ‘রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা’ হিসেবে সমালোচনা করে, এবং যুবকদের স্বতন্ত্র ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। যুব সংগঠনগুলো পোস্টকে ‘সচেতনতা জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে স্বাগত জানায়, তবে একই সঙ্গে তারা সামাজিক মিডিয়ায় অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি না করার জন্য সতর্কতা প্রকাশ করে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রকাশনা রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করে তুলতে পারে, তবে তা যুবকদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতেও সহায়ক হতে পারে। সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়ায় মিশ্র অনুভূতি দেখা যায়; কিছু অংশে পোস্টকে সমর্থন করে, আবার অন্য অংশে তা অতিরিক্ত ধর্মীয় রঙের ব্যবহার হিসেবে সমালোচনা করা হয়।

অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনগত বিশেষজ্ঞের মতে, ফেসবুকের মতো সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্যের ওপর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন, তবে যদি কোনো উস্কানিমূলক বা হিংসাত্মক বক্তব্য প্রকাশ পায়, তবে তা আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সামাজিক মিডিয়ার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু করেছে। এছাড়া, সরকার যুব নীতি পুনর্বিবেচনা করে, যুবকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্ল্যাটফর্ম সরবরাহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে, এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব কমাতে এবং যুবকদের গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, সকল রাজনৈতিক দলকে সংলাপের মাধ্যমে সমন্বিত নীতি গঠন করতে হবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.