প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
অর্থনীতি

১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণের জন্য চাকরি হবে মাত্র ৪০ কোটি

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচি
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 18, 2026 প্রিন্ট: 21 Oct 2026, 02:02 AM
১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণের জন্য চাকরি হবে মাত্র ৪০ কোটি

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মী শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে, কিন্তু একই সময়ে নতুন করে সৃষ্টি হবে মাত্র ৪০ কোটি চাকরির সুযোগ। এই বিশাল ঘাটতি দেশের জনসংখ্যার অর্থনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি দেশের ক্রমবর্ধমান তরুণ জনশক্তিকে কর্মহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি পূর্বাভাস, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই কর্মসংস্থানের ঘাটতির পেছনে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও শিল্পখাতের বর্তমান অবস্থার একটি জটিল পটভূমি। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রসারিত হলেও, সেই প্রসারণের ফল সঠিকভাবে কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হচ্ছে না। শিল্পখাতের বৈশিষ্ট্য, প্রযুক্তির অভাব এবং বিনিয়োগের সীমিত পরিসর এই ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে, দেশের শিল্পখাত যখন মূলধন-নির্ভর নয়, বরং শ্রম-নির্ভর, তখনও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার ধীরগতির কারণে নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারছে না। এছাড়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদার পরিবর্তনও এই পরিস্থিতির আরও জটিল করে তুলেছে।

এই বিষয়ে বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অজয় বাঙ্গা মন্তব্য করেছেন যে, কর্মসংস্থানের এই ঘাটতি একটি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়, বরং এটি একটি পূর্বাভাস। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি খাতের পুঁজি, জনকল্যাণমূলক সংস্থার সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। জনসাধারণের মধ্যে এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগের ছাপ দেখা গেছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। তারা চাকরির সুযোগের অভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে অশান্তিতে রয়েছে। বর্তমানে দেশের তরুণদের মধ্যে কর্মহীনতার হার বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও জেগে উঠেছে, যা সরকারের জন্য একটি বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, বেসরকারি খাতের সাথে সমন্বয় সাধন করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে, এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকর্তাদের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.