প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে: জহির উদ্দিন স্বপন

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আজ (তারিখ) থেকে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে পরিকল্পিত। সফরের
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 17, 2026 প্রিন্ট: 17 Oct 2026, 09:33 PM
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে: জহির উদ্দিন স্বপন

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আজ (তারিখ) থেকে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে পরিকল্পিত। সফরের প্রথম দিনে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন, যেখানে দুই দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক আলোচনা হয়। সফরের তাৎক্ষণিক গুরুত্বের মধ্যে জাপানের উচ্চ প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহায়তা বাংলাদেশে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত। এই সফরকে উভয় দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি ১৯৭২ সালে স্বীকৃতি প্রদান থেকে শুরু হয়ে বহু দশক ধরে দৃঢ়তা অর্জন করেছে। পূর্বে জাপান বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা, অবকাঠামো নির্মাণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে; বিশেষ করে রেলওয়ে, সড়ক ও জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমবর্ধমান। এছাড়া, বাণিজ্যিক লেনদেনে জাপান বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর একটি, যেখানে রেডি-গুডস, পোশাক ও চা পণ্য প্রধান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের দিকে ধাবিত করেছে। এই পটভূমিতে বর্তমান সফরকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন স্তরে উত্তোলনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরের প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন সফরের পর প্রকাশ্যে মন্তব্য করে জানান, “এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে” এবং জাপান থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশাব্যক্তি প্রকাশ করেন। এছাড়া, জাপানের দূতাবাসের প্রধানও বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাপানি সহায়তার ভূমিকা প্রশংসা করে উল্লেখ করেন যে, “দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান, যা এই সফরে আরও দৃঢ় হবে”। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই সফরকে স্বাগত জানানো হয়েছে; সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জাপান থেকে আসা নতুন প্রযুক্তি ও শিক্ষার সুযোগের প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। ব্যবসা সংস্থাগুলোও জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, বিশেষ করে স্বয়ংচালিত, রোবোটিক্স ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে নতুন প্রকল্পের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অধিকারের দিক থেকে সরকার ইতিমধ্যে সফরের ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিসে সফরের পর একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে, যা জাপান থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবনা ও চুক্তিগুলোর ত্বরিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জাপানি বিনিয়োগের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ প্রস্তুত করছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নতুন প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশ যৌথভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, স্মার্ট সিটি ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.