নড়াইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চাঁদপুরের বিখ্যাত ইলিশ মাছ বিক্রির ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আরও তিনজন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এই চক্রের মোট নয়জন সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতারকরা ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে ইলিশ মাছের ছবি ও দামের বিজ্ঞাপন দিয়ে অগ্রিম টাকা আদায় করতেন, কিন্তু পরে মাছ সরবরাহ না করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এই প্রতারণায় বহু মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে এবং এতে সামাজিক বিশ্বাসের গভীর চিড় ধরেছে।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি মূলত নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করত। তারা চাঁদপুরের ইলিশ মাছের নামে প্রতারণা করত, কারণ চাঁদপুরের ইলিশ দেশজুতে বিখ্যাত এবং এর চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। প্রতারকরা ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করত এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা আদায় করত। এর আগে একই চক্রের ছয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এবার পুলিশের তদবিরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা এই চক্রের মূল নেতৃত্বের সাথে তাদের সম্পর্ক নির্দেশ করে।
গ্রেপ্তার প্রতারকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন, তারা পরিবারের খাবারের জন্য বা উপহারের জন্য ইলিশ কিনতে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু মাছ পাননি এবং টাকাও ফেরত পাননি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই প্রতারণার কারণে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও বড় পরিসরে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। এতে করে জনজীবনে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির দায়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এখন এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারে মনোযোগ দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছে, ফেসবুকে অচেনা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাছ বা অন্যান্য পণ্য কেনাকাটা করার আগে যথাযথ যাচাইবাচাই করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা রোধে পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রতারণা শনাক্তকরণে বিশেষ মনোযোগ দেবে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেবে। জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপে এই ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।