প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
খেলাধুলা

যুক্তরাষ্ট্রের মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় প্রথম চুয়েট দল

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 16, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 06:42 PM
যুক্তরাষ্ট্রের মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় প্রথম চুয়েট দল

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যে দেশের শিক্ষাবৃত্তি ও প্রকৌশলী সমাজে আনন্দের লহরী ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলগুলো অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু চুয়েটের দল তাদের দক্ষতা, নিখুঁত গণনাপদ্ধতি ও দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষদের পিছনে ফেলে শিরোপা জয় করে নিয়েছে। এই সাফল্যটি কেবল একটি ক্রীড়া বা প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিফলন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এই প্রতিযোগিতার পটভূমি হিসেবে উল্লেখযোগ্য যে, মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি হলো একটি জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ, যেখানে প্রতিযোগী দলগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে মর্টার গুলি ছোড়ার মাধ্যমে নির্ভুলতা প্রমাণ করতে হয়। এতে গাণিতিক মডেলিং, বায়ুগত শক্তি, মাটির ঢাল এবং গতিবেগের সঠিক হিসাব করতে হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতার জন্য মাসের পর মাস কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তারা স্থানীয় গবেষণাগারে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তাদের সফটওয়্যার অ্যালগরিদম উন্নত করেছিল। এই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও নিষ্ঠার ফলেই তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উঁচু করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা গর্বিত হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই সাফল্যকে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো প্রতিযোগিতায় সেরা প্রমাণ করতে সক্ষম। একই সাথে দেশের বিভিন্ন প্রকৌশলী সংগঠন ও শিক্ষাবিদরা এই দলের সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ইচ্ছাশক্তি পাবে।

বর্তমানে কর্তৃপক্ষ এই দলের সাফল্যকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বেশি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়াও, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ গবেষণা কর্মসূচি চালু করার মাধ্যমে এই ধরনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বিস্তৃত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের প্রযুক্তি উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয় করতে সক্ষম হবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.