দ্বিতীয় দফা ভোটের পূর্বে বলসোনারো তার সমর্থন ভিত্তি সম্প্রসারণে তীব্র প্রচারণা চালাচ্ছেন, যখন লুলা নতুন সমর্থন সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন। ভোটারদের মধ্যে অনির্ধারিতদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বলসোনারো তাড়াতাড়ি পরিকল্পনা করে বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক র্যালি ও জনসমাবেশ আয়োজন করছেন। এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তায় ভরপুর, এবং ভোটের ফলাফল নির্ধারণে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পটভূমি কয়েক বছর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে গড়ে উঠেছে। লুলা পূর্বে দুই মেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি পুনর্গঠন করেছেন, তবে তার শাসনকালে মুদ্রাস্ফীতি ও অপরাধের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বলসোনারো, যিনি পূর্বে রক্ষণশীল নীতি ও নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পরিচিত, তার শাসনকালে পরিবেশ নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সমালোচনা তীব্রভাবে শোনা গিয়েছে। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশাল আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
প্রচারণা চলাকালীন বলসোনারো তার সমর্থকদের কাছে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার কথা তুলে ধরেছেন, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি “ব্রাজিলকে পুনরুজ্জীবিত” করতে চান। লুলা পক্ষ থেকে যদিও তিনি সমর্থন সংগ্রহে ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন, তবু তিনি দেশের সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ভোটারদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা নীতি ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বেশি আগ্রহী। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে যে অনির্ধারিত ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বলসোনারোর নীতি পছন্দ করছেন, অন্য অর্ধেক লুলার সামাজিক নীতি সমর্থন করছেন।
ব্রাজিলের ইলেকশন কমিশন ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে। সরকারও ভোটের পূর্বে তথ্য প্রচার ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। ভবিষ্যতে যদি বলসোনারো বিজয়ী হন, তবে তার নীতি বাস্তবায়নের জন্য সংসদীয় সমর্থন সংগ্রহে অতিরিক্ত রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন হবে; অন্যদিকে লুলা যদি পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে তার অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। উভয় ক্ষেত্রেই দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব পড়বে, তাই নির্বাচনের ফলাফল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্ধারণ করবে।