প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
অপরাধ

চুরির চেষ্টার অভিযোগ হাত বেঁধে মারধর, পরদিন সেতুর নিচ থেকে তরুণের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় গত রাত্রে এক তরুণের ওপর চুরির চেষ্টার অভিযোগে মো. ইমন (২১) নামের অপরাধীকে গ্রেফতার করার সময় হিংসাত্মক মারধর করা হয়। পুলিশ জানায়,
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 15, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 10:55 PM
চুরির চেষ্টার অভিযোগ হাত বেঁধে মারধর, পরদিন সেতুর নিচ থেকে তরুণের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় গত রাত্রে এক তরুণের ওপর চুরির চেষ্টার অভিযোগে মো. ইমন (২১) নামের অপরাধীকে গ্রেফতার করার সময় হিংসাত্মক মারধর করা হয়। পুলিশ জানায়, ইমনকে হাতে বেঁধে গৃহস্থালীর গলিতে টেনে নিয়ে শারীরিক আঘাতের পর শয্যায় শুয়ে থাকা অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুর শঙ্কা দেখা দেয়। পরের দিন সেতুর নিচের গাছের ছায়া থেকে ইমনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের স্রোত তৈরি করেছে।

বাকলিয়া অঞ্চলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোরাচালান ও গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই এলাকায় চুরির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে, অপরাধের তীব্রতা ও সামাজিক অশান্তি বৃদ্ধির ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। পূর্বে একই এলাকায় দুইটি অনুরূপ ঘটনা ঘটলেও, সেসব ক্ষেত্রে অপরাধীকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়নি।

ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় পুলিশ প্রধানের মাধ্যমে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, “ইমনকে গ্রেফতার করার সময় তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবে হিংসাত্মক আচরণ সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।” স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হক জানান, “আমরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, এমন হিংসা আমাদের সমাজের নৈতিক ভিত্তি ক্ষয় করে।” ইমন পরিবারের পক্ষ থেকে শোকবাণী প্রকাশ পায়, যেখানে তারা “আইনের ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণে বিশ্বাস রাখি” বলে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনও ঘটনাটিকে “অবৈধ হিংসা ও অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি” হিসেবে নিন্দা করেছে।

পুলিশ এখনো ইমনকে মারধর করার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের উপর অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চট্টগ্রাম উচ্চ আদালতকে এই মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও ক্যামেরা স্থাপন পরিকল্পনা করেছে এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করবে। ভবিষ্যতে হিংসা-মুক্ত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ও তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নও অগ্রাধিকার পাবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.