প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
ঢাকা

চকবাজারে প্রচণ্ড আগুন, সরু গলি ও পানির অভাবে ফায়ার সার্ভিসের হিমশিম

রাজধানীর ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজারে রবিবার বিকেলে প্রচণ্ড আগুনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকটি দোকানে একই সময়ে আগুন
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 13, 2026 প্রিন্ট: 14 Oct 2026, 11:32 AM
চকবাজারে প্রচণ্ড আগুন, সরু গলি ও পানির অভাবে ফায়ার সার্ভিসের হিমশিম

রাজধানীর ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজারে রবিবার বিকেলে প্রচণ্ড আগুনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকটি দোকানে একই সময়ে আগুন ধরার পর দ্রুতই তা আশপাশের অসংখ্য দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও লেলিহান শিখা দেখে এলাকাবাসী আতঙ্কে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সরু গলি ও পানির স্বল্পতার কারণে তারা তেমন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। এই ঘটনায় কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা এলাকার অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।

চকবাজার শহরের অন্যতম পুরোনো ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, যেখানে দোকানপাটগুলো খুবই কাছাকাছি অবস্থিত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে বহু বছর ধরে জমে থাকা বর্জ্য ও বিদ্যুৎ তারের জটিলতা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকার গলিগুলো এতই সরু যে তাদের বড় ফায়ার ট্রাকগুলো ঘটনাস্থলের খুব কাছে যেতে পারে না। ফলে তারা ছোট গাড়ি ও হাতে হোজ নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় কাজে বিঘ্ন ঘটেছে। এছাড়া, ঘটনাস্থলের কাছে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের তীব্র বেগ পেতে হয়েছে।

আগুনের ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন নিভানোর সময় পানির অভাবে তারা নিজেদের ঘরবাড়ির পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিল, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা যথাসম্ভব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, কিন্তু ভৌগোলিক বাধা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তারা সীমাবদ্ধ। এলাকাবাসী দাবি করছে, চকবাজারের মতো ঐতিহাসিক এলাকাগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঘটে না।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে চকবাজারসহ রাজধানীর অন্যান্য পুরোনো এলাকাগুলোতে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন ও গলি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়ন নয়, বরং এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত না করলে আগুনের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.