কুমিল্লা জেলায় বাসিন্দা নাসরুল্লাহ (বয়স ৪২) ১৪ই জুন ২০২৪ তারিখে সাওদি আরবের মক্কা শহরে ওমরাহ পালন করার উদ্দেশ্যে হেজবাহার বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। রওনা হওয়ার পরপরই তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন উদ্বেগে ভেসে ওঠে, কারণ নির্ধারিত সময়ে তিনি মক্কা থেকে ফিরে আসেননি। নাসরুল্লাহর পরিবার তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশকে জানায় এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে। বর্তমানে নাসরুল্লাহর অবস্থান অজানা, এবং তার অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বহু বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক মুসলিম আরবের পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনা সফর করেন, এবং ওমরাহ পালনকারী যাত্রীদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে ধর্মীয় সফরের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। অতীতে একই রকম কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে যাত্রীরা ভ্রমণ সংস্থার ভুল তথ্য, ভিসা সমস্যার কারণে বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ফলে অপ্রত্যাশিতভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। নাসরুল্লাহর ক্ষেত্রে, তার ভ্রমণ সংস্থা 'ইসলামিক ট্রাভেলস' কর্তৃক সরবরাহিত টিকিট ও ভিসা নথি সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তবে তার গন্তব্যে পৌঁছানোর পর থেকে কোনো যোগাযোগ রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
নাসরুল্লাহর পরিবার জানিয়েছে, তিনি সফরের আগে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেননি এবং সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছিল। স্থানীয় পুলিশ প্রধানের মতে, বর্তমানে নাসরুল্লাহর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য সাওদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং তার পাসপোর্ট, ভিসা ও ফ্লাইট রেকর্ডের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালু করা হয়েছে। সাওদি আরবের দূতাবাসের প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন, তারা বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করবে। সামাজিক মাধ্যমে নাসরুল্লাহর অনুপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, বহু নাগরিক তার দ্রুত ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা ও সমর্থন জানিয়েছেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ নাসরুল্লাহর সন্ধানের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং সাওদি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি, হেজবাহার বিমানবন্দর থেকে রওনা হওয়া সকল বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যাতে ভ্রমণ সংস্থা ও পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়। সরকারও ভবিষ্যতে বিদেশে ধর্মীয় সফরের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নাসরুল্লাহর পরিবার ও সমর্থকরা আশা করছেন, দ্রুত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে এবং তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে আসবেন।