প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

মণিপুরে একের পর এক হামলা ও গুলি, শিরশ্ছেদ করে নয়জনকে হত্যা, বাড়িঘরে আগুন

মণিপুর রাজ্যে সহিংসতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কথিত গোলাগুলির ঘটনায় কুকি স
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 11, 2026 প্রিন্ট: 12 Oct 2026, 08:59 AM
মণিপুরে একের পর এক হামলা ও গুলি, শিরশ্ছেদ করে নয়জনকে হত্যা, বাড়িঘরে আগুন

মণিপুর রাজ্যে সহিংসতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কথিত গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের এক নারী, ডমখোনেই তোথাং নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে একের পর এক হামলা, গুলি ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতার শিকার হয়ে নয়জন মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকজনের শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের নতুন ও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।

মণিপুরে মেলহোয়া-কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে, যা গত বছর থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছিল। এই সংঘাতের পটভূমিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত হামলা, লুটতুটি ও নিহতের ঘটনা ঘটে আসছে। নিরাপত্তা বাহিনী একদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও, অন্যদিকে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ হয়নি। চাসাদ গ্রামের ঘটনাটি এই দীর্ঘদিনের সংঘাতের একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামো এই দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতার কারণে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের শিকার হয়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। অনেক পরিবার এখনও ভয়ের মধ্যে আছে এবং তারা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই ধরনের সহিংসতা রাজ্যের সামাজিক শান্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলছে। শিক্ষার্থীরাও এই পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রায় থেমে গেছে। রাজ্যবাসীরা দাবি করছেন, সরকারকে অবশ্যই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনজীবনে এই সহিংসতার প্রভাব অত্যন্ত গভীর এবং তা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, যারা এই সহিংসতার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে এই সংঘাত সমাধান সম্ভব নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই সহিংসতা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে, যা পুরো রাজ্যের জন্যই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.