আবুধাবিতে দুই দিন প্রশিক্ষণ শেষে আজ নাজমুল রশিদ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শ্রীলঙ্কা‑আফগানিস্তান টেস্টের প্রথম দিন শুরু করবেন। ৯ অক্টোবর শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাইলফলক, কারণ এটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট হবে এবং দেশের শীর্ষ স্তরের বোলার নাজমুলের উপস্থিতি ম্যাচের গুরত্বকে দ্বিগুণ করেছে। টেস্টের সূচনা মুহূর্তে নাজমুলের পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা সর্বোচ্চ, যা দেশের ক্রিকেট উত্সাহীদের মধ্যে উত্তেজনা ও গর্বের সঞ্চার ঘটাচ্ছে।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অগ্রগতি গত দশকে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছে; ২০০৫ সালে প্রথম টেস্ট জয় থেকে আজ পর্যন্ত দলটি ধারাবাহিকভাবে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছে। অপরদিকে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত অগ্রসর হয়ে ২০১৮ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। নাজমুলের দু'দিনের প্রস্তুতি সময়ে আবুধাবির আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা, দ্রুত গতি ও স্পিনের মিশ্রণ অনুশীলন এবং শর্তাবলীর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে টেস্টের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান কোচ জয়ন্ত দাসের মতে, নাজমুলের গতি এবং সঠিক লাইন‑লম্বা এই শর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্যাপ্টেন মাশরাফি হাসানও উল্লেখ করেছেন, "নাজমুলের উপস্থিতি আমাদের আক্রমণকে ভারসাম্যপূর্ণ করবে এবং আফগানিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করবে।" ভক্তদের মধ্যে নাজমুলের প্রত্যাশা উচ্চ, বিশেষত তার গতিশীল সেবা ও লেটার স্লাইডারকে নিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের মন্তব্যে দেখা যায়, "নাজমুলের গতি আমাদের টেস্টে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে" এবং "আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে নাজমুলের পারফরম্যান্সই মূল চাবিকাঠি"।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে ম্যাচের নিরাপত্তা, মাঠের প্রস্তুতি এবং মিডিয়া কভারেজের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। টেস্টের আগে নাজমুলের শারীরিক ফিটনেস ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দু'দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সিরিজের সম্ভাবনা রয়েছে, যা উভয় দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সহায়ক হবে। বিসিবি আরও ঘোষণা করেছে, টেস্টের পরবর্তী পর্যায়ে নাজমুলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে, যাতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে সঞ্চারিত হয় এবং দেশের টেস্ট ক্রিকেটের গুণগত মান উন্নত হয়।