ইউরিন ব্যাগ (ক্যাথেটার) ব্যবহারকারী রোগী ও তাদের পরিবারগত সদস্যদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একটি ধর্মীয় প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। রোগীর শয্যায় ইউরিন ব্যাগ সংযুক্ত থাকলে অজু (উদয) করার সময় কীভাবে সঠিকভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগী এবং শারীরিক অক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রশ্নটি তৎক্ষণাৎ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ অজু ইসলামী শুদ্ধতার একটি মৌলিক অংশ এবং তা সঠিকভাবে না করা হলে নামাজের বৈধতা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে।

অজুর শারীরিক শর্তাবলী সম্পর্কে ইসলামী শাস্ত্র ও ফিকহে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। শারীরিকভাবে শুদ্ধ হওয়ার জন্য হাত, মুখ, নাক, মুখের অংশ এবং পা পরিষ্কার করা প্রয়োজন, এবং শারীরিক তরল যেমন মূত্র, মল, রক্ত ইত্যাদি দূর করা আবশ্যক। তবে ক্যাথেটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূত্র শরীরের বাইরে সংরক্ষিত হয়, যা শারীরিকভাবে শরীরের কোনো অংশে সংস্পর্শে না থাকলে তা শুদ্ধতা ব্যাহত করে না বলে কিছু ফিকহী মতামত রয়েছে। অন্যদিকে, কিছু পণ্ডিতের মতে, ক্যাথেটার টিউবের সংস্পর্শে থাকা মূত্রের গন্ধ বা স্পর্শ শুদ্ধতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে অজু সম্পন্ন করার আগে টিউবটি পরিষ্কার করা বা মূত্রের প্রবাহ বন্ধ করা প্রয়োজন। এই পটভূমি বিবেচনা করে বিভিন্ন ধর্মীয় বিদ্যালয় ও মুফতি সমিতি বিষয়টি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন রায় প্রদান করেছে।

বিভিন্ন ধর্মীয় পণ্ডিত ও মুফতি সমিতি এই বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। ঢাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুফতি মাওলানা আহমদ রশিদ বলেন, “যদি ক্যাথেটার টিউবের মাধ্যমে মূত্র শরীরের বাইরে প্রবাহিত হয় এবং তা শারীরিকভাবে শরীরে সংস্পর্শে না আসে, তবে অজু করা যায়; তবে অজু করার সময় টিউবটি স্পর্শ না করা উচিত।” অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মসজিদ শারিফের মুফতি হাবিবুল্লাহ রাহমাতুল্লাহা বলেন, “অজু করার আগে ক্যাথেটার টিউবের আশেপাশের অংশ পরিষ্কার করে নেয়া উত্তম, যাতে কোনো গন্ধ বা স্পর্শের সম্ভাবনা না থাকে।” রোগী পরিবারও এই রায়গুলোকে স্বাগত জানিয়ে, “আমাদের পিতার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অজু করা কঠিন হয়ে পড়ে, এখন স্পষ্ট নির্দেশনা পেয়ে আমরা মানসিক শান্তি পেয়েছি,” এমন মন্তব্য করেছেন।

এই আলোচনার পর ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাথেটার ব্যবহারকারী রোগীর অজু করার সময় টিউবটি স্পর্শ না করা, টিউবের আশেপাশের অংশ পরিষ্কার রাখা এবং অজু করার পর যদি মূত্র আবার ব্যাগে প্রবাহিত হয় তবে অজু পুনরায় করা প্রয়োজন নয়, যদি তা শারীরিকভাবে শরীরে সংস্পর্শে না আসে। পাশাপাশি, হাসপাতালগুলোকে রোগীর ধর্মীয় চাহিদা মেটাতে রিলিজ ফর্মে অজু সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নির্দেশিকাকে ভিত্তি করে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কর্মীরা রোগী ও পরিবারকে সঠিক তথ্য প্রদান করবে, যাতে ধর্মীয় শুদ্ধতা ও চিকিৎসা সেবা দুটোই সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে।