মাহদী আমিন আজ জাতীয় টেলিভিশন সম্প্রচারে জানিয়ে দিলেন যে, দেশের মানবসম্পদকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার লক্ষ্যে সরকার এখনো অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষ কর্মশক্তি গঠনের জন্য উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য, এবং এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য আগ্রহী কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিনিয়োগকারী উপস্থিত হলে সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। এই ঘোষণাটি দেশের শিক্ষা নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয়কে শক্তিশালী করার দিক থেকে তাৎক্ষণিক গুরুত্ব বহন করে।
দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা বহু বছর আগে থেকেই বিভিন্ন নীতি পত্রে উল্লেখিত হয়েছে। পূর্বে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষার মানদণ্ডে পৌঁছাতে ব্যর্থতা দেখিয়েছে, যার ফলে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার চাহিদা বেড়েছে। অতএব, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ধারণা সরকারী পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিয়েছে, যা দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। এই পটভূমিতে, সরকার ইতিমধ্যে উচ্চশিক্ষা সংস্কার আইন প্রণয়ন, গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে।
মাহদী আমিনের এই ঘোষণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দ্রুতই মন্তব্য প্রকাশ পায়। মন্ত্রীর দপ্তর জানায়, সরকার আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য বিশেষ অর্থায়ন পরিকল্পনা, জমি সরবরাহ এবং নিয়ন্ত্রক সুবিধা প্রদান করবে। পাশাপাশি, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থী সংগঠন ও পিতামাতা সমিতি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চমানের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং কর্মসংস্থান সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে। তবে কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, বিনিয়োগের সঠিক শর্তাবলী এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিচালনায় স্বচ্ছতা না থাকলে প্রকল্পের সাফল্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সরকার ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যার দায়িত্ব হবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী সনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা। এছাড়া, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় নতুন এক্সেলেন্স সেন্টার স্থাপন, স্কলারশিপ স্কিমের বিস্তৃতি এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।