রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের আরাজি গ্রামে ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুজন শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। উৎসবের উল্লাসের মাঝেও হঠাৎ করে গৃহস্থালীর পুকুরে শিশুরা খেলতে গিয়ে ডুবে যাওয়ার খবর শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে শোকের স্রোত বইয়ে দেয়। এই দুঃখজনক ঘটনার তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশ ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে, এবং পরিবারকে সান্ত্বনা প্রদান করে।
আরাজি গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত গ্রামের বৃহৎ জমিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পানির পুকুর ও ছোটো হ্রদ প্রাকৃতিক দৃশ্যের অংশ হিসেবে থাকে। গত কয়েক বছরেও একই স্থানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে, তবে কখনো এত গুরুতর পরিণতি দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, পুকুরের তীরের ঢাল খাড়া এবং পানির প্রবাহ দ্রুত, যা ছোট শিশুরা সহজে সাঁতার কাটা শিখতে না পারায় বিপদজনক হয়ে ওঠে। পূর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়া এবং পর্যাপ্ত রক্ষাকবচের অভাবই এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ঘটনার পরে পরিবার ও গ্রামবাসীরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চায়। মৃত শিশুর মা, রাহিমা বেগম, কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমরা আনন্দের মুহূর্তে এই দুঃখের মুখোমুখি হলাম; আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আর না ঘটুক।” গ্রামসভা প্রধান হাবিবুল আলম, জানান, “আমরা তৎক্ষণাৎ পুকুরের চারপাশে বেড়া বসাব এবং নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ করব, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর ক্ষতি না হয়।” স্থানীয় শিক্ষক ও যুবকও সমবেত হয়ে শিশুদের সাঁতার শিখানোর উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় পুলিশ ও গ্রাম উন্নয়ন অফিসের সমন্বয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুকুরের চারপাশে অস্থায়ী বেড়া স্থাপন, নিরাপত্তা চিহ্ন ও সতর্কতা পোস্টার লাগানো হয়েছে। এছাড়া, গ্রামসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একত্রে শিশু সুরক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে শিশুরা মৌলিক সাঁতার কৌশল শিখে নিরাপদে খেলতে পারে। ভবিষ্যতে গ্রাম পর্যায়ে সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারী তহবিলের মাধ্যমে স্থায়ী রক্ষাকবচ ও সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।