মিজান নামে পরিচিত এক গরু মাংস‑ভাতের বিক্রেতা, যিনি রাস্তায় ১০০ টাকায় গরুর মাংস‑ভাত পরিবেশন করে ভাইরাল হয়ে উঠেছিলেন, তার দোকান আবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষের দিকে মিজান সকালে গরুর মাংস, পেঁয়াজ, মশলা ও চাল নিয়ে শহরের প্রধান পায়ে‑পায়ে রাস্তায় পৌঁছে ফুটপাতের এক কোণে তৎক্ষণাৎ রান্না শুরু করতেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার গরম গরু মাংস‑ভাতের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ক্রেতার ভিড় দ্রুত জমা হয় এবং লাইন গড়ে ওঠে। আজ বিকাল নাগাদ পৌরসভার কর্মীরা পূর্বে দেওয়া উচ্ছেদ আদেশের ভিত্তিতে তার সাময়িক কাঠামো ভেঙে ফেলেছেন।

মিজান প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে এই রকম সাশ্রয়ী গরু মাংস‑ভাতের বিক্রয় শুরু করেন, যখন শহরের মাঝারি আয়ের পরিবারগুলো খাবারের দামের বৃদ্ধিতে সাশ্রয়ী বিকল্পের সন্ধান করছিল। তার ১০০ টাকার দাম ও স্বাদগত মান দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিতি পায়। তবে রাস্তায় অবৈধভাবে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রয় করা নিয়ে পৌরসভার নিয়মাবলী কঠোর। ২০২১ সালে প্রথম উচ্ছেদের পর মিজান সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তরিত হন, তবে পুনরায় মূল স্থানে ফিরে এসে আবার একই সমস্যার মুখোমুখি হন। এই পুনরাবৃত্তি তার ব্যবসার টেকসইতা ও শহরের নগর পরিকল্পনার মধ্যে টানাপোড়েনের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিজান উচ্ছেদের পর স্থানীয় মিডিয়ায় ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, ‘আমি সবার জন্য সাশ্রয়ী খাবার সরবরাহ করতে চাই, কিন্তু নিয়মের জটিলতা আমাকে বাধা দিচ্ছে’। তার গ্রাহকরা সামাজিক নেটওয়ার্কে তার পক্ষে মন্তব্য করে, ‘কম দামে গরু মাংস পাওয়া কঠিন, মিজানের খাবারই একমাত্র সমাধান’। অন্যদিকে, কাছাকাছি দোকানদাররা অভিযোগ করেন, ‘রাস্তায় খাবার রান্না করা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে’। পৌরসভার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ‘অবৈধ রান্না স্থানে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও অগোছালো ট্র্যাফিকের সমস্যা রয়েছে, তাই উচ্ছেদ করা বাধ্যতামূলক’। জনমত গোষ্ঠী ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোও মিজানের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প সমাধান প্রস্তাব করেছে।

পৌরসভার প্রধান কর্মকর্তা আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ‘মিজানের উচ্ছেদ আইনগত ভিত্তিতে করা হয়েছে, তবে আমরা তার ব্যবসা চালানোর জন্য উপযুক্ত স্থানে লাইসেন্স প্রদান করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করব’। শহরের নগর পরিকল্পনা বিভাগে নতুন স্ট্রিট ফুড পার্কের পরিকল্পনা চলছে, যেখানে নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে বিক্রেতারা কাজ করতে পারবেন। মিজানকে এই পার্কে স্থান প্রদান করা হলে তার ব্যবসা বৈধভাবে চালাতে পারবে এবং গ্রাহকদের সাশ্রয়ী খাবারও পাবেন। একই সঙ্গে, পৌরসভার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভবিষ্যতে অননুমোদিত স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, যাতে শহরের শৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।