নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায় গণ-অভ্যুত্থানের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর কলেজের অধ্যক্ষ ও রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জি এম মাসুদ রানা জুয়েলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই বছর পর কলেজ প্রাঙ্গণে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এই হামলার শিকার হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কলেজের সামনে পৌঁছানোর পরই একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় কলেজ প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন। আহত অধ্যক্ষকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গত দুই বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইতিহাস। গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পূর্বের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। রানীনগর উপজেলায় আবাদপুকুর কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জি এম মাসুদ রানা জুয়েলকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই বরখাস্তের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কলেজ ব্যবস্থাপনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় পুরনো অধ্যক্ষের কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়। এই মতভেদই হামলার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষকমণ্ডলী এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা হিসেবে তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে নিন্দে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীরা কলেজের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ধরনের সহিংসতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নষ্ট করে এবং জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাঁরা দাবি করেছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলাকারীদের শনাক্তকরণে তদন্ত শুরু করেছে। রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং যেকোনো সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কলেজ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।