গাইবান্ধা জেলার গৌরবপুর গ্রাম এলাকায় সন্ধ্যাবেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর গৃহস্থালী আইপিএস মেরামতে নিযুক্ত পুলিশ সুপারইনস্পেক্টর মো. আসাদুজ্জামান (এসআই) একমুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং তৎক্ষণাৎ মৃত্যু বরণ করেন। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এসআই-র অকাল মৃত্যুর ফলে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ শাখা ও পরিবার উভয়ই শোকাহত, পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে প্রকাশ পায়।

বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামতে পুলিশ কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া একটি সাধারণ প্রথা, তবে এই প্রথা বহু বছর ধরে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। গাইবান্ধা এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রায়ই ঘটে, ফলে বাসিন্দা ও সরকারি কর্মীরা স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ করে থাকেন। পূর্বে অনুরূপ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও সেগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এসআই-র মৃত্যুর পূর্বে তিনি আইপিএসের পুরনো কেব্লিং ও সংযোগের সমস্যার সমাধানে নিজে হাতে কাজ করছিলেন, যা নিরাপত্তা মানদণ্ডের অভাবে ঘটতে পারে।

ঘটনার পর গাইবান্ধা জেলা পুলিশ প্রধান ও গৃহস্থালী আইপিএস সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করে এবং দুঃখজনক এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিবারিক সদস্য ও সহকর্মীরা এসআই-র পরিশ্রমী ও ন্যায়পরায়ণ চরিত্রের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ বিদ্যুৎ মেরামতের জন্য প্রশিক্ষিত পেশাদারদের নিয়োগের দাবি তীব্রভাবে তুলেছেন এবং সরকারকে এই বিষয়ে নীতি নির্ধারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও ঘটনাটির ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা বিধানের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং আইপিএস মেরামতে জড়িত সকল কর্মীর জন্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পুরনো কেব্লিং পরিবর্তন ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে গৃহস্থালী বিদ্যুৎ মেরামতের কাজ শুধুমাত্র অনুমোদিত ও প্রশিক্ষিত কর্মীরাই করবেন, এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। সরকার সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা মানদণ্ডকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।