গত সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজন করা এক স্মরণীয় অনুষ্ঠানে দেশের প্রখ্যাত গীতিকর্তা ও গবেষক দিনু বিল্লাহকে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে তাঁর সাংস্কৃতিক জীবন, গণসংগীতে অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উপস্থিত বিশিষ্ট শিল্পী, শিক্ষাবিদ ও ছাত্রছাত্রীরা একত্রে তাঁর সৃষ্টিকর্মের গৌরবময় মুহূর্তগুলো পুনরায় স্মরণ করে, যা দেশের সঙ্গীত ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি ও জাতীয় আত্মবোধকে জোরদার করে। এই সমাবেশের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, সমসাময়িক যুব সমাজকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে গণসংগীতের মূল তত্ত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে যুক্ত করা।

দিনু বিল্লাহের সঙ্গীত যাত্রা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে শুরু হয়। তিনি তখনই গ্রাম্য লোকসঙ্গীতের সঙ্গে আধুনিক সুরের সমন্বয় ঘটিয়ে ‘গণসংগীত’ শব্দের নতুন সংজ্ঞা গড়ে তোলেন। তাঁর গবেষণাপত্রে তিনি দেখান কীভাবে সঙ্গীতের মাধ্যমে জনগণের মানসিকতা গঠিত হয় এবং তা স্বাধীনতার সংগ্রামে কী ভূমিকা রাখে। অতঃপর, তিনি বহু ঐতিহাসিক গীতের রচনা ও সংকলন করেন, যার মধ্যে ‘মুক্তিযুদ্ধের সুর’ এবং ‘বাংলার মাটি’ অন্যতম। এই রচনাগুলো কেবল সঙ্গীতের রূপে না, বরং জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে পরিণত হয়েছে, যা আজও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাইতে শোনা যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট দেখা যায়, দিনু বিল্লাহের কাজের প্রতি সমগ্র সমাজের গভীর সম্মান। শিল্পী রুবেল হোসেন বলেন, “তার সুরে গাঁথা আছে আমাদের বীরদের ত্যাগের গল্প, যা শোনার পর প্রত্যেকের হৃদয়ে স্বাধীনতার আগুন জ্বলে ওঠে।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষক ড. ফারহানা রায় উল্লেখ করেন, “বিল্লাহের গবেষণা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ, যা গণসংগীতের তত্ত্বকে একাডেমিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত করেছে।” ছাত্রছাত্রীরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর গানের লিরিক্স শেয়ার করে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করছে।

অনুষ্ঠানের পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্কৃতি অধিদপ্তর পরিকল্পনা করেছে, দিনু বিল্লাহের রচনাবলী অন্তর্ভুক্ত করে একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যৎ গবেষক ও শিল্পী সহজে অ্যাক্সেস করতে পারে। এছাড়া, শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ‘গণসংগীত ও মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ক কোর্স চালু করা হবে, যেখানে তার গবেষণাপত্র ও গানের বিশ্লেষণ করা হবে। সরকারও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে, জাতীয় স্তরে গণসংগীতের সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য একটি তহবিল গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সজীব রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।