ডেঙ্গু রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগে অতিরিক্ত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগীর ভর্তি সংখ্যা ১,৫৯৩ এ পৌঁছেছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১,৪০০ এবং নারীর সংখ্যা ৫৮৯, যেখানে ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সের ২৫৩ জন রোগী সর্বাধিক সংখ্যায় রয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে এবং জনস্বাস্থ্যের জরুরি সতর্কতা জাগিয়ে তুলেছে।
ডেঙ্গু রোগের মৌসুম সাধারণত গ্রীষ্মকালে শুর হয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন এবং তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছে। গত বছরের একই সময়ে মোট ৩,৪৫৬ রোগী ভর্তি হয়েছিল, যার মধ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছিল; তুলনায় এই বছর মাত্র এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহস্থালির পাত্রে পানি জমে না রাখার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, নগর ও গ্রামীণ এলাকায় অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অপ্রতুল বর্জ্য নিষ্পত্তি ব্যবস্থা মশার প্রজননকে সহজ করে তুলছে। অতএব, ডেঙ্গু রোগের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য চিকিৎসক ডা. রশিদ আহমেদ জানান, রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার ফলে হাসপাতালের আইসিইউ ও ডেঙ্গু নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে শয্যা ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তিনি যোগ করেন, রোগীর তীব্র অবস্থা দ্রুত সনাক্ত করে ত্বরিত চিকিৎসা প্রদান করা জরুরি। রোগীর আত্মীয়স্বজনের উদ্বেগের মুখে, ঢাকা শহরের এক পরিবারে আক্রান্ত কন্যা রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, তার বাবা-মা ভবিষ্যৎ চিকিৎসা খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সামাজিক মিডিয়ায় রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী তথ্য প্রচার চালাচ্ছে, তবে কিছু অংশে ভয় ও গুজবের বিস্তারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অধিকাংশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত মশা নাশক স্প্রে কার্যক্রম চালু করবে এবং স্থানীয় সরকারকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেবে। পাশাপাশি, রোগীর ত্বরিত সনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ডেঙ্গু টেস্ট কিট ও ওষুধ সরবরাহ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পরিবেশ নীতি এবং টেকসই নগর পরিকল্পনা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কার্যকর বাস্তবায়ন রোগের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভবিষ্যতে ডেঙ্গু সংক্রান্ত মৃত্যুর হার কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।