বৃহস্পতিবারের প্রাতঃকালে সরকারী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের সর্বত্র বিক্রিত হওয়া বনরুটির বিক্রয়মূল্য পূর্বের ২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই পাঁচ টাকার বৃদ্ধি শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের গৃহস্থালীর জন্য তাত্ক্ষণিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। রোজগারী কর্মী, দৈনিক শ্রমিক ও ছোটখাটো ব্যবসায়িক পরিবারগুলো রুটিন খাবার হিসেবে বনরুটির ওপর নির্ভর করে আসছে; অতএব মূল্যের এই অল্প বৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন ব্যয়ের অনুপাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। বাজারে বিক্রয় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকরা দাম বৃদ্ধির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে, কিছু দোকানে বিক্রয় হ্রাসের লক্ষণ দেখা যায়।
বনরুটির দাম বৃদ্ধির পেছনে মূলত গমের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, স্থানীয় উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি এবং পূর্বে প্রদত্ত সরবরাহভিত্তিক ভর্তুকি হ্রাসের প্রভাব রয়েছে। গত ত্রৈমাসিকে গমের আমদানি মূল্যের ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরাসরি রুটি উৎপাদনের খরচে প্রভাব ফেলেছে। তদুপরি, জ্বালানি মূল্যের ধারাবাহিক উত্থান ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে বেকারির উৎপাদন খরচে অতিরিক্ত বোঝা যুক্ত হয়েছে। সরকার পূর্বে রুটির দামের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য ভর্তুকি প্রদান করলেও, সাম্প্রতিক বাজেট ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ভর্তুকি হ্রাস করা হয়েছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আবদুল হক জানান, 'বনরুটির দাম বাড়া শ্রমিকদের জীবনের মৌলিক চাহিদা হুমকির মুখে ফেলেছে; আমরা দ্রুত মূল্য স্থিতিশীলতা ও অতিরিক্ত ভর্তুকি দাবী করছি।' একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিও উল্লেখ করেন, 'দাম বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করবে, ফলে বাজারে বিক্রয় হ্রাস পাবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়িকদের ক্ষতি হবে।' কিছু রুটি বিক্রেতা বলছেন, 'খরচ বাড়ার ফলে বিক্রয়মূল্য বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই; তবে আমরা গ্রাহকের বোঝা কমাতে ছোট প্যাকেজে বিক্রয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।' সাধারণ গ্রাহকরা রুটির বিকল্প হিসেবে সাদা ভাত ও আলুর ব্যবহার বাড়িয়ে তুলছেন, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টিগত ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অস্থায়ী ভর্তুকি পুনর্বিবেচনা করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় গমের আমদানি মূল্যের হ্রাসের জন্য সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দর কষাকষি বাড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় রুটি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উৎপাদন খরচ কমাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে মূল্য স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তত্ত্বাবধানে মাসিক মূল্য সমীক্ষা চালু করা হবে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে।