বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে সাম্প্রতিক সময়ে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের সাহিত্যচর্চা নিয়ে উচ্চতর গবেষণার আহ্বান জানানো হয়েছে। রফিকের ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণ, আধুনিক বাংলা গদ্য ও কবিতার বিকাশে তার অবদান এবং জাতীয় চেতনা গঠনে তার ভূমিকা বিশ্লেষণ করার জন্য একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রফিকের রচনাশৈলী, ভাষা নীতি এবং সামাজিক প্রভাবের গভীর বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমন্বিত গবেষণা গ্রন্থ তৈরি করা। তৎক্ষণাৎ প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে গবেষণার ফলাফল জাতীয় সংস্কৃতি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আহমদ রফিক (১৯২১-১৯৯৪) বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রগামী নেতা এবং সমসাময়িক সাহিত্যিক হিসেবে তার রচনায় জাতীয়তাবাদ, মানবিকতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের থিম স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তার রচনাসমূহে গ্রাম্য জীবনের বাস্তবতা, শ্রমিকের সংগ্রাম এবং শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের তুলনায় নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে। যদিও রফিকের কাজের ওপর কিছু গবেষণা হয়েছে, তবে অধিকাংশই তার ভাষা নীতি ও সাহিত্যিক প্রভাবের সমন্বিত বিশ্লেষণ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে। অতএব, এই উচ্চতর গবেষণার আহ্বান পূর্বের ফাঁক পূরণ করে রফিকের সমগ্র সাহিত্যচর্চাকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে।
কমিটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আলী, যিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক, তিনি গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “আহমদ রফিকের রচনায় ভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের সূক্ষ্ম দৃষ্টান্ত রয়েছে; এ বিষয়ে গভীর গবেষণা না করলে আমাদের সাহিত্য ঐতিহ্য অসম্পূর্ণ থাকবে।” সংস্কৃতি অধিদপ্তরের সচিব শ্রীমতি রেহানা বেগমও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের গবেষণা জাতীয় পরিচয় গঠনে সহায়ক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন পাঠ্যসূচি গঠনে ভিত্তি হবে।” সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; সামাজিক মিডিয়ায় রফিকের স্মৃতি ও কাজের প্রতি নতুন আগ্রহের প্রকাশ ঘটেছে, এবং বহু তরুণ গবেষক এই প্রকল্পে অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সরকারি পক্ষ থেকে গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক তহবিল হিসেবে একশো কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা দল গঠন, ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় গ্রন্থাগারকে রফিকের মূল পাণ্ডুলিপি, চিঠিপত্র ও প্রকাশনা সংরক্ষণে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। গবেষণা ফলাফলকে ভিত্তি করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমন্বিত গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশের পাশাপাশি রফিকের জীবন ও কাজকে কেন্দ্র করে একাধিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো রফিকের সাহিত্যচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং ভাষা সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদী নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।