গতকাল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মানদেব শহরে হুতিদের একটি সামরিক অভিযান শুরু হয়, যার ফলে শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনাটি দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটিয়েছে, বিশেষ করে রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে। মানদেবের কৌশলগত অবস্থান ও বন্দর সুবিধা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আসা পরিস্থিতি তৎক্ষণাৎ অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

মানদেব শহরটি দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পণ্য বিনিময় হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে বহু বিনিয়োগ প্রকল্প চলমান ছিল, যার মধ্যে একটি বড় লজিস্টিক হাব নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে হুতিদের আগ্রাসন ও সামরিক কার্যক্রমের ফলে এই প্রকল্পগুলো বিলম্বিত হয়েছে। পূর্বে মানদেবের বন্দর থেকে প্রতি মাসে ১.৫ মিলিয়ন টন পণ্য রপ্তানি হতো, যা দেশের মোট রপ্তানির ৪% এরও বেশি। হুতিদের নিয়ন্ত্রণে এটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি কন্টেইনারের গতি ধীর হয়ে গেছে।

মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে মানদেবের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ৩০% হ্রাস ঘটেছে। অর্থমন্ত্রী শ্রীমতি রাধা চন্দ্রা বলেন, ‘আমাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে বন্দর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয় এবং রপ্তানি ক্ষতি কমানো যায়।’ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতি আমাদের ব্যবসায়িক চক্রকে ব্যাহত করছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা কমছে।’ জনগণও ভোক্তা মূল্যের বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন।

সরকারি বাহিনী মানদেবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং বন্দর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। অর্থমন্ত্রকের অধীনে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে। ভবিষ্যতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর জন্য বিকল্প রুট ও বন্দর সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের বাণিজ্য প্রবাহকে পুনরায় সুস্থ করার লক্ষ্যে গৃহীত।