সরকারি খাতের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে দেশের সব সরকারি সংস্থার জন্য একটি একক দরতালিকা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দরতালিকা নেই, তারাও এই কেন্দ্রীয় তালিকা অনুসরণ করে পণ্য ও উপকরণ ক্রয় করবে। এতে করে বাজারজাতকরণের সুযোগ ব্যবহার করে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য ক্রয়ের ঝুঁকি কমে যাবে এবং জনসম্পদ অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান দাম নির্ধারণের অনিয়ম দূর করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব দরতালিকা অনুযায়ী পণ্য ক্রয় করে আসছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই তালিকাগুলো বাস্তব বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, যাতে করে প্রায়ই অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ উঠত। বিশেষ করে যেসব ছোট ও মাঝারি সরকারি দপ্তর বা সংস্থার নিজস্ব দর নির্ধারণের ক্ষমতা বা প্রযুক্তিগত সুবিধা ছিল না, তারা বাধ্য হয়েই স্থানীয় বাজারের অস্থির দামের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ত। এই অনিয়মের ফলে সরকারি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়ের ঘটনা ঘটিত, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। তাই একক দরতালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খোলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং অর্থনীতিবিদরা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একক দরতালিকা হলে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রতিটি কেনাকাটার হিসাব-নিকাশ সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। এছাড়াও এটি সরাসরি জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, কারণ সরকারি খরচ কমলে সেটা পরোক্ষভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, দরতালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি, অন্যথায় বাজারের দামের ওঠানামার সাথে তালিকাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকতে পারবে না। তাই তালিকা প্রণয়নে বাজারজাতকরণের প্রবণতা এবং সরবরাহকারীদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই এই একক দরতালিকা প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজার মূল্য সমীক্ষা করে একটি বাস্তবসম্মত এবং ন্যায্য দর নির্ধারণ করবে। প্রাথমিক ধাপে মৌলিক পণ্য, অফিস সরঞ্জাম এবং নির্মাণ উপকরণের দরতালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই তালিকাটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রকাশ করার কথা রয়েছে, যাতে যেকোনো সময় যেকোনো সরকারি কর্মকর্তা সহজেই দাম যাচাই করতে পারেন। এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি রোধে একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে উঠবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।