বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আজ সরকারী বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচির অধীনে চুক্তিভিত্তিকভাবে মোট ৮৫ জন কর্মীকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং কুমিলা—নিয়োগ করা হবে। আবেদন ফি একশো টাকা নির্ধারিত হয়েছে এবং নির্বাচনের ফলাফল দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এই পদগুলো পল্লী অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সমর্থন এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন দিকের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা সরাসরি গ্রামীণ জনগণের আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করবে।

বিআরডিবি পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচি ২০১৯ সালে চালু হয় এবং তৎকাল থেকে দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র উৎপাদন, মৎস্য, পশুপালন এবং হস্তশিল্পের উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করেছে। পূর্বে এই কর্মসূচি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে, তবে গত বছর থেকে নিয়োগের সংখ্যা সীমিত ছিল এবং কিছু অঞ্চলে কর্মীর ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং কুমিলা তিনটি জেলা পল্লী উন্নয়নের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে পর্যটন, মৎস্য এবং কৃষি উৎপাদন উচ্চ সম্ভাবনা রাখে; তাই এই এলাকায় অতিরিক্ত মানবসম্পদ যুক্ত করা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াবে।

বিআরডিবি প্রধান ড. মোহাম্মদ রশিদুল হক এই নিয়োগের মাধ্যমে “গ্রামীণ জনগণের স্বনির্ভরতা ও আয় বৈচিত্র্যকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন” করা হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি যোগ করেন, “আবেদন ফি কম রাখা হয়েছে যাতে আর্থিক বাধা কমে এবং যোগ্য প্রার্থীরা সহজে অংশগ্রহণ করতে পারে।” স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, “চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়াবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে।” তবে কিছু শ্রমিক সংগঠন নিয়োগের চুক্তিভিত্তিক প্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা চায় যে কর্মীদের কাজের শর্তাবলী ও বেতন ন্যায্যভাবে নির্ধারিত হবে।

প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে আবেদনপত্রের ফরম ও মানদণ্ড প্রকাশ করেছে এবং অনলাইন পোর্টাল মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর, নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হবে, যেখানে পল্লী উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় বাজার বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে, বিআরডিবি এই চুক্তিভিত্তিক কর্মী ব্যবস্থাকে সম্প্রসারিত করে অন্যান্য জেলা ও সেক্টরে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে, যাতে পল্লী জীবিকায়নের সামগ্রিক কাঠামো শক্তিশালী হয় এবং দেশের গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়।