বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক উৎসব হ্যালোউইনের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশি তরুণ শিল্পী জাহ্নবী কাপুর এই বছর তার পোশাকের মাধ্যমে অতীতের এক স্মরণীয় চরিত্রকে পুনর্জীবিত করে জনমতকে উন্মাদনায় পরিণত করেছেন। তিনি ১৯৯১ সালের হিন্দি চলচ্চিত্র ‘নাগিনা’‑এর আইকনিক নায়িকা মা শ্রীদেবীর চরিত্রকে অনুপ্রেরণা হিসেবে বেছে নিয়ে সাদা-সোনালি গাউন, ঝলমলে গহনা এবং ঐতিহ্যবাহী নাচের ভঙ্গি পুনর্গঠন করেছেন। এই লুকটি সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভক্ত ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার সূচনা করে, যা দেশের বিনোদন জগতের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে।
মা শ্রীদেবী ১৯৯০‑এর দশকে ‘নাগিনা’ চরিত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র দর্শকদের হৃদয়ে অমোচনীয় ছাপ রেখে গেছেন। ঐ চরিত্রের জাদু, রঙিন পোশাক এবং নৃত্যশৈলী তখনকার সমাজে নারীর স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। হ্যালোউইন উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী চিত্রটি পূর্বে বাংলাদেশে সীমিত মাত্রায় দেখা গিয়েছে; অধিকাংশ সময় স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কস্টিউমই জনপ্রিয় ছিল। জাহ্নবীর এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের ঐতিহ্যকে স্থানীয় উদযাপনের সঙ্গে মিশ্রিত করার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা অতীত ও বর্তমানের সংযোগকে দৃঢ় করে।
জাহ্নবী কাপুর লুকটি প্রকাশের পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান, ‘মা শ্রীদেবীর ‘নাগিনা’ চরিত্রের শক্তি ও সৌন্দর্য আমার জন্য অনুপ্রেরণার মূল উৎস, এবং হ্যালোউইনের এই উদযাপনে তা পুনরায় জীবন্ত করতে পেরে গর্বিত’। তার মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মন্তব্যে প্রশংসা, স্মরণীয় মুহূর্তের পুনরাবৃত্তি এবং কিছু সমালোচকও প্রকাশ করেন যে, বিদেশি চরিত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবুও অধিকাংশ মন্তব্যে এই লুকটি হ্যালোউইনের রঙিন পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে বলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, এবং সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার, লাইক ও মন্তব্যের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
বিনোদন শিল্পের প্রতিনিধিরা এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জাহ্নবীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ‘বৈশ্বিক উৎসবের সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সমন্বয় আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে’। তারা ভবিষ্যতে হ্যালোউইন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎসবে স্থানীয় শিল্পীকে আন্তর্জাতিক আইকনকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রশিক্ষণ ও সমর্থন প্রদান করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, চলচ্চিত্র সংস্থা এবং ফ্যাশন ডিজাইনারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন কস্টিউমের নৈতিক ব্যবহার ও কপিরাইট সংরক্ষণের জন্য নির্দেশিকা তৈরি করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে সহায়তা করবে।